তিন বোনের আত্মহত্যা তদন্তে নতুন তথ্য, বাবার ৩ স্ত্রীই আপন বোন

জাতীয়

ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে তিন কিশোরী বোনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তিন বোনের বাবা চেতন কুমারের তিন স্ত্রী। নিহতদের মা সুজাতা, হিনা ও টিনা তিনজনই আপন বোন। খবর এনডিটিভির।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আর্থিক সংকটের কারণে চেতন কুমার মেয়েদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য সেগুলো বিক্রি করে দেন। তিনি দাবি করেন, কোরিয়ান কনটেন্ট ও অনলাইন গেমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চেতন কুমার একজন স্টক ব্রোকার এবং তার বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি রুপির ঋণের চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত তিন বোন নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) কোরিয়ান বিনোদনের বড় ভক্ত ছিল। তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার রাতে তারা মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও কাঙ্ক্ষিত কোরিয়ান অ্যাপ ও কনটেন্টে প্রবেশ করতে পারেনি। ফরেনসিক দল জানিয়েছে, ওই ফোনে সংশ্লিষ্ট কোনো অ্যাপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানায়, তিন বোন বাবার সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। উদ্ধার করা নোটে তারা বাবার উদ্দেশে বার্তা লিখলেও মায়ের নাম উল্লেখ করেনি। হাতের লেখা ও আঙুলের ছাপ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, প্রতিবেদন এখনো আসেনি।

সাইবার ক্রাইম ইউনিট মোবাইল ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে ক্রেতাদের শনাক্তের চেষ্টা করছে, যাতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার করা যায়। তদন্তকারীরা ৯ পৃষ্ঠার ডায়েরিও উদ্ধার করেছেন, যেখানে কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি গভীর আকর্ষণ ও পারিবারিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে বাবার দাবিসহ পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত তিন বোনের শেষকৃত্য বুধবার দিল্লির নিগম বোধ ঘাটে সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে চেতন কুমারের এক লিভ-ইন সঙ্গীর মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সে সময় একটি ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হলেও পুলিশ পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *