যে কারণে ইরানে হামলা, ট্রাম্প জানালেন আসল কারণ

Uncategorized

শান্তিতে নোবেল জয়ের অদম্য বাসনা আর সেই স্বীকৃতি না পাওয়ার গভীর আক্ষেপই কি ইরানকে আগুনের মুখে ঠেলে দিল? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই পুরনো ক্ষোভ ও নোবেল পুরস্কার নিয়ে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতা। ভেনেজুয়েলার মারিয়া করিনা মাচাদোর সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে নোবেলের দাবিদার হিসেবে নাম এলেও শেষ পর্যন্ত কমিটি থেকে ট্রাম্পের ঝুলিতে কিছুই জোটেনি। মাচাদো একচ্ছত্রভাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও প্রশংসা কুড়ালেও ট্রাম্পকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় যা তিনি তাঁর একক কৃতিত্বের অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখেন। এই ব্যক্তিগত গ্লানি মুছতেই তিনি বিশ্বকে নিজের সামরিক ক্ষমতা দেখানোর পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

বিশ্লেষকদের মতে ট্রাম্প নিজেকে কেবল একজন শান্তি স্থাপনকারী নয় বরং ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া একজন ‘নির্ধারক শক্তি’ হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া। ওবামার চেয়েও বেশি অবদান রেখেছেন বলে দাবি করলেও নোবেল কমিটি বারবার তাঁকে উপেক্ষা করেছে। মাচাদোর সঙ্গে নাম আসা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি না পাওয়া ছিল তাঁর জন্য এক চরম অপমান। ফলস্বরূপ নিজের ‘ডিল মেকার’ ইমেজের চেয়ে ‘পাওয়ারফুল কমান্ডার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং খামেনির মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে একচ্ছত্র শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতেই তিনি ইরানের ওপর এই ভয়াবহ হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

মাচাদো যখন ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়ে নোবেল দৌড়ে এগিয়ে যান তখন ট্রাম্প ভেবেছিলেন যৌথভাবে বা এককভাবে তাঁর নাম আসবে। কিন্তু মাচাদো সম্মাননা পেলেও ট্রাম্পের জন্য ছিল শুধুই শূন্যতা।

মাচাদোর সাফল্যের তুলনায় ট্রাম্পের অবদানকে খাটো করে দেখা হয়েছে—এমন এক মনোভাব থেকেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে চেয়েছেন।

রাজনৈতিকভাবে মাচাদোকে সমর্থন দিলেও নোবেল ইস্যুতে তাঁর একচ্ছত্র প্রাধান্য ট্রাম্পের অহমে বড় আঘাত করে। মাচাদো যখন বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন তখন ট্রাম্প যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে সেই মর্যাদাকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

পুরস্কার বা সম্মানের বদলে ট্রাম্প এখন বিশ্বকে বার্তা দিতে চান যে তিনি কোনো কমিটির স্বীকৃতির তোয়াক্কা করেন না। নিজের শক্তি দিয়ে যেকোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন—এই দম্ভই এখন ইরানের আকাশে বারুদ হয়ে ঝরছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *