বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামে পরকীয়ার টানে চলে গেছেন আসমা বেগম নামে এক নারী। এরপর তার স্বামী প্রতিবন্ধী নাসির হাওলাদার বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। বর্তমানে তাদের দুই শিশু সন্তান মেহেদী ও মাইনুল বসে থাকে বাবার কবরের পাশে। তারা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কোথায়, কে হবে তাদের আশ্রয়, কে এগিয়ে আসবে তাদের স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে।
তাদের বাবার মৃত্যুর আগেই মা আসমা বেগম ছোট দুই সন্তানকে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। এরপর থেকে সন্তানদের আর খোঁজ নেননি তিনি।
বর্তমানে দুই শিশুর একমাত্র আশ্রয় ষাটোর্ধ্ব বিধবা দাদি রিজিয়া বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা গ্রামের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করে কোনোমতে নিজের ও নাতিদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দিন দিন শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া রিজিয়া বেগমের পক্ষে এখন আর দুই শিশুর দায়িত্ব বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বড় ছেলে মেহেদী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে মাইনুলের সঙ্গে সেও স্থানীয় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। কিন্তু চরম অভাব-অনটনের কারণে তাদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক দিন এমনও যায় তিনবেলা খাবার জোটে না তাদের।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হলো, মাঝেমধ্যেই দুই ভাই তাদের বাবার কবরের পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। কখনও খেলতে খেলতে কবরের পাশে চলে যায়, কখনও আবার আনমনে বসে থাকে দীর্ঘক্ষণ। হয়ত তারা এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারেনি বাবা আর কখনও ফিরে আসবেন না।
এলাকাবাসী জানান, শিশু দুটি বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের দাদির পক্ষে আর এই সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত কোনো সহায়তা না পেলে শিশু দুটির শিক্ষা, পুষ্টি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অসহায় এই দুই শিশুর পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
তারা মনে করেন, সামান্য সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে মেহেদী ও মাইনুলের জীবন। নিশ্চিত করতে পারে তাদের শিক্ষা, খাদ্য ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
আজ তারা হয়ত খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই মগ্ন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন তারা বুঝতে শিখবে নিজেদের বাস্তবতা, তখন হয়ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে এই পৃথিবীতে তাদের আপনজন কে?
মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় আছে দুই অবুঝ শিশু। সমাজের একটু সহানুভূতি, একটু দায়িত্ববোধ এবং একটু ভালোবাসাই পারে তাদের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।