ছিনতাইয়ের কবলে শিক্ষিকা নিহত : নতুন তথ্য দিল র‍্যাব

Uncategorized

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের কবলে নিহত হন স্কুলশিক্ষিকা রনজিনা পারভিন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তির নাম মো. পনি ওরফে প্যারা পনি। র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

রনজিনা পারভীন চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন।

গতকাল শনিবার ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনাতাইয়ের কবলে পড়েন তিনি। এসময় ছিনতাইকারীরা তার ব্যগ ধরে টান দিলে রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে অজ্ঞাত একজনসহ মামলা হয়েছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে স্বামী আবদুল মতিনের সঙ্গে বাসে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রনজিনা। শনিবার ভোরে তারা কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নামেন। সকাল ৬টার দিকে সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ফার্মগেটের খামারবাড়ির ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।

রনজিনার স্বামী আব্দুল মতিন জানান, মোটরসাইকেলটি দুই বার তাদের রিকশার পাশে ঘষা দেয়।

তিনি তখন প্রতিবাদ করেন। এরপর রিকশাচালক গতি কমিয়ে দেন। আর সেই মুহূর্তেই পেছনে থাকা মোটরসাইকেলের আরোহী রনজিনার কাঁধে থাকা ব্যাগটি ধরে সজোরে টান দেন। ছিনতাইকারী ব্যাগ নিয়ে খামারবাড়ির দিকে চলে যায়। আর হেঁচকা টানে রিকশা থেকে উল্টে সড়কে পড়ে যান রনজিনা।
স্ত্রীকে পড়ে যেতে দেখে রিকশা থামিয়ে পেছনে দৌড়ে যান মতিন। গিয়ে স্ত্রীর মাথা কোলে তুলে নেন। তখন রনজিনা রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন। এরপর কোলে তুলে ওই রিকশাতেই স্ত্রীকে নিয়ে ছুটে যান সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। হাসপাতালে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রনজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৫১ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৮ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৮ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৪ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭৬ জন, মিরপুর বিভাগে ১৬৮ জন, গুলশান বিভাগে ৩৪ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজন রয়েছেন।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫৪ পিস ইয়াবা, ৩৪৬ গ্রাম গাঁজা, ১০০ গ্রাম সোনা, দুটি চাকু ও ৯টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *