স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা বেগম ঘোষণা করেছিলেন, ৪৮ ঘন্টার ভেতর কিন্তু সেটাও জানা যায় নি

Uncategorized

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো হত্যার রহস্যের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। সর্বশেষ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১২৯তমবারের মতো পিছিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাগর-রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি; বরং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়েনি।

এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে আসার দাবি করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অন্য একটি গুমের মামলার তদন্তে একটি মুঠোফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এক সেনা সার্জেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ওই সার্জেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে আসে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সূত্র ধরে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে তাদের যোগাযোগ এবং কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জিয়াউল আহসান বা রোকেয়া প্রাচী সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো আদালতের রায় এখনো হয়নি। ফলে তাদের বিষয়ে উঠে আসা তথ্যকে আপাতত তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ও সম্ভাব্য যোগসূত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন ১২৯ বার পিছিয়ে যাওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কেন এত বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যের সমাধান হলো না? ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের সেই ঘোষণা থেকে শুরু করে ১৪ বছরের দীর্ঘ তদন্ত—শেষ পর্যন্ত সাগর-রুনি হত্যার পেছনের প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, সেটিই এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *