হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ভারতের ঝাড়খণ্ডের উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) জ্যেষ্ঠ নেতা সুদিভ্য কুমার সোনু । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সুদিভ্য কুমারকে রাঁচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার ভোর ৪টার দিকে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
গিরিডিহ বিধানসভা আসনের এই বিধায়ক উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি নগর উন্নয়ন, পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুববিষয়ক দপ্তরের দায়িত্বও পালন করছিলেন।
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জেএমএম। দলটি এক বিবৃতিতে সুদিভ্য কুমারকে দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও ঝাড়খণ্ড সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে। তার মৃত্যু দল, সরকার ও ঝাড়খণ্ডের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলেও জানায় দলটি।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও সুদিভ্য কুমারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাকে বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা, পরামর্শদাতা এবং ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে স্মরণ করেন।
রাজ্যের পরিবহন, রাজস্ব ও ভূমি সংস্কারমন্ত্রী দীপক বিরুয়া জানান, শনিবার রাতে সুদিভ্য কুমারের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
২০১৯ সালে গিরিডিহ বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচিত হন সুদিভ্য কুমার। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত সুদিভ্য কুমার জেএমএমের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৪ সালে জমি জালিয়াতি ও অর্থপাচার মামলায় হেমন্ত সোরেন গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে কর্ণাটক সফর শেষে ঝাড়খণ্ডে ফিরেছিলেন সুদিভ্য কুমার। ঝাড়খণ্ড সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সেখানে পর্যটন অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। সফরকালে কর্ণাটকের পর্যটনমন্ত্রী কে জে জর্জের সঙ্গে পর্যটন ও বন ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
সুদিভ্য কুমারের আকস্মিক মৃত্যুতে ঝাড়খণ্ডের ক্ষমতাসীন জেএমএম ও রাজ্য সরকারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।