দীর্ঘদিনের ‘জি-হুজুর’ আর ‘জি-আপা’ নির্ভর সংসদীয় সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষতার নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা—দুই স্পিকারের এমন ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা দাবি করেছেন, চেয়ারে বসার পর দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদীয় দায়িত্বকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখার সাহস দেখিয়েছেন। তাদের এই অবস্থানকে অনেকেই দেখছেন ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী—কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং সংসদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতাকে সামনে রাখার বার্তা হিসেবে।
একসময় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ কতটা জায়গা পাবে, সেটি নিয়েই ছিল নানা প্রশ্ন। সেই জায়গায় দুই স্পিকারের এমন অবস্থান সত্যিই যদি বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তাহলে তা দেশের সংসদীয় সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
কারণ স্পিকারের চেয়ার শুধু ক্ষমতার আসন নয়—এটি ন্যায়, ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতার প্রতীক। সেখানে বসে নিজের দলকেও প্রয়োজন হলে প্রশ্ন করার মতো দৃঢ়তা দেখানো সহজ নয়। আর সেই কঠিন পথটি বেছে নেওয়ার বার্তাই এখন নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি করেছে আবেগ ও প্রশংসার আবহ।