ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে বাংলাদেশি এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ভবন থেকে পড়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজ্যের আনাকাপল্লী জেলার কাকিনাদা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইটিভি ভারতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফার্মেসিতে অধ্যয়নরত স্নাতকপর্যায়ের বাংলাদেশি ওই ছাত্রী কাকিনাদায় অচ্যুতাপুরমের এক বাসিন্দার সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন। ওই বাসিন্দা সেখানকার একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে কাজ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশি ওই ছাত্রী মাত্র ১০ দিন আগে অচ্যুতাপুরমে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তার পাশেই বেদুরুভাদার একটি বহুতল ভবনের ভাড়া নেয়া কক্ষে থাকতেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা কমলেশ যাদব (৪৩)। তিনি একটি মদের দোকানে কাজ করতেন।
গত শনিবার বাংলাদেশি ওই ছাত্রীর পুরুষ বন্ধু অফিসের কাজে বেরিয়ে যান। পরে রোববার বিকেলে বাসায় ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে যাদব তার বাসায় আসেন। এ সময় তিনি ওই ছাত্রীকে তার শৌচাগার পরিষ্কার করে নেবেন কি না, সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। কিছুক্ষণ শৌচাগার পরিষ্কারের ভান করে তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন যাদব।
ওই শিক্ষার্থী হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেন।
এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ভবনের একটি পিলার বেয়ে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন হামলাকারী যাদব। কিন্তু নিচে নামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
বাংলাদেশি ওই ছাত্রীর কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে পুলিশকে ফোন করে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনাকাপল্লী জেলা পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর চন্দ্রশেখর রাও।