হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে আবার ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ করার আলোচনা থাকলেও আপাতত সেই পথে হাঁটছে না সরকার। বরং নাম পরিবর্তনের পেছনে বিপুল অর্থ ও সময় ব্যয় না করে দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালুর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা শুধু সাইনবোর্ড বদলের বিষয় নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোড, বিভিন্ন নথি ও বৈশ্বিক এভিয়েশন ব্যবস্থার নানা বিষয় জড়িত। তাঁর দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য এখন নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে টার্মিনালটির আংশিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে কার্যক্রম বাড়িয়ে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
থার্ড টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের আয়-অংশীদারিত্ব নিয়েও কথা বলেছেন মন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের একটি বড় অংশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
নাম পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা থাকলেও সরকারের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—প্রতীকী পরিবর্তনের চেয়ে বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও কার্যক্রম দ্রুত সচল করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা।
সব মিলিয়ে, বিমানবন্দরের নাম বদলের বিতর্কে না গিয়ে থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালু করা এবং এর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকেই এখন সামনে রাখা হচ্ছে।