যে কারণে এক হাত জোব্বায় ঢেকে রাখতেন খামেনি, জানা গেল

জাতীয়

গত শনিবার তেহরানে নিজ কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গত রোববার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি নিশ্চিত করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাতবরণ করেছেন।

খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। দেশীয় গণমাধ্যম ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মসজিদে তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতেন। এসব ঘটনার সব ছবিতেই একটি সাধারণ বিষয় দেখা যায়, তিনি সব সময় তাঁর ডান হাত ঢেকে রাখতেন। এ থেকে অনেকের মনে কৌতূহল—তিনি কেন তাঁর ডান হাত সব সময় ঢেকে রাখতেন।

খামেনি আশির দশকে এক প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবে ওই হামলা থেকে বেঁচে ফিরলেও তাঁর ডান হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তাঁর সেই অবশ হাতটি জোব্বার নিচে ঢেকে রাখাই ছিল খামেনির চিরচেনা প্রতিচ্ছবি।

১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আট বছর আগে, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ২৭ জুন এক হত্যাচেষ্টার শিকার হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খামেনি। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সম্মুখভাগ থেকে ফিরে তিনি একটি মসজিদে নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে অনুসারীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এক যুবক তাঁর সামনের টেবিলে একটি টেপ রেকর্ডার রেখে বোতাম চেপে দেন। কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে রেকর্ডারটি বিস্ফোরিত হয়।

রেকর্ডারের ভেতরে লেখা ছিল, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য ফুরকান গ্রুপের উপহার’। ফুরকান গ্রুপ ছিল তৎকালীন শিয়া আলেমশাসিত সরকারের কট্টর বিরোধী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।

ওই বিস্ফোরণে খামেনির ডান হাত, কণ্ঠনালি ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুস্থ হতে কয়েক মাস সময় লাগলেও তাঁর ডান হাতটি চিরতরে অবশ হয়ে যায়। সেই সময় অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার হাতের প্রয়োজন নেই। আমার মস্তিষ্ক ও জিহ্বা কাজ করলেই যথেষ্ট হবে।’

এরপর তিনি বাঁ হাতে লেখা রপ্ত করেন এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আরোহণ করেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে তিনি একবারই যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *