ট্রাম্প শর্তে রাজি হলেই ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ ইরানে

জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর কার্যত ‘হিতে বিপরীত’ হয়েছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের। বিস্ফোরণ ঘটেছে ইরানের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার। খামেনির পূর্বপরিকল্পিত ছকে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) স্থানীয় কমান্ডার বা তরুণ সেনানায়কদের হাতে চলে গেছে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা। এ অবস্থায় আইআরজিসির উচ্চপর্যায় থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবন্ধ প্রস্তাব মেনে নিলে দীর্ঘমেয়াদি ‘সিপাহি বিদ্রোহ’র মুখে পড়তে পারে ইরান। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বলছেন-সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তরা ট্রাম্পের সঙ্গে আপস বা শান্তিচুক্তি করলে তাদের হত্যা করতে পারে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা। সামরিক বাহিনীতে ‘গুপ্তহত্যা মিশন’ শুরু করতে পারে দেশটির তরুণ সেনানায়করা। বিবিসি।

আমেরিকান ইরানিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হুশাং আমির আহমাদি বিবিসিকে বলেছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসনব্যবস্থার ক্ষমতা সারা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আমির আহমাদির মতে, খামেনির শাসনামলে ক্ষমতা ছিল ‘উলম্ব’ বা এককেন্দ্রিক। তার মৃত্যুতে সেই কাঠামোর পতন ঘটেছে। নেতৃত্ব এখন ছড়িয়ে পড়েছে। নিম্ন পদের কর্মকর্তাদের হাতে চলে গেছে।

বুধবার বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ প্রোগ্রামে তিনি জানান, এই ক্ষমতা এখন মূলত ‘সেনাবাহিনীর হাতে’। তিনি আরও যোগ করেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কোথায় চালানো হবে, তা সমন্বয় করার মতো এখন কোনো ‘কেন্দ্রীয় ব্যক্তি’ সেখানে নেই। শাসনব্যবস্থার প্রায় ১৫০ জন শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা নির্মূল হলেও একদল তরুণ কর্মকর্তা এখন ‘ক্রমশ প্রভাবশালী’ হয়ে উঠছেন। আহমাদি বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত ইসরাইল বা আমেরিকা যদি ইরানের বড় জেনারেলদের হত্যা করে থাকে, তবে এখন থেকে নিজ দেশের দ্বিতীয় সারির বিপ্লবী কর্মকর্তাদের হাতে প্রাণ হারাবেন তারা। এতে আমি অবাক হব না। কারণ কার্যত ক্ষমতা এখন তাদের হাতেই।’ আহমাদি ব্যাখ্যা করেন, ইসলামি শাসনামলের ক্ষমতাকাঠামো সবসময়ই কিছুটা বিকেন্দ্রীকৃত ছিল। কারণ ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রতিটি নিজস্ব আইআরজিসি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু এখন খামেনি এবং তার অধিকাংশ জেনারেল নিহত হওয়ায় এই ‘বিকেন্দ্রীকৃত রাজনৈতিক কাঠামো’ আরও বিস্তৃত হয়েছে। এখন ক্ষমতা বিশেষ করে সামরিক ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ভাগ হয়ে পড়েছে। প্রতিটি কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় থেকে পালটা হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখছেন।

তিনি আরও জানান, সাবেক আয়াতুল্লাহর আমলের পুরোনো কর্মকর্তারা এখনো উপস্থিত থাকলেও মাঠপর্যায়ের যুদ্ধে আগ্রহী তরুণ কর্নেলদের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ট্রাম্প যখন শান্তি প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেন, তখন অবশিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে তা অস্বীকার করেন। কারণ তারা এই তরুণ বিপ্লবী কর্মকর্তাদের চরম ভয় পাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ইসরাইল ও ইরান মঙ্গলবার রাতেও পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়েছে।

আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) জানিয়েছে, তারা রাজধানী তেহরানে দূরপাল্লার নৌ-ক্রুজ মিসাইল তৈরির দুটি প্রধান কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান সতর্ক করেছেন যে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব একটি ‘ভয়াবহ ও গভীর মন্দার’ মুখে রয়েছে। এর ফলে বছরের পর বছর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে থাকতে পারে, যা অর্থনীতির ওপর ‘সুদূরপ্রসারী প্রভাব’ ফেলবে। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প হয়তো উত্তেজনা কমাতে চাইবেন, কিন্তু বাজার এখনো সন্দিহান যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে কি না। ফলে তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। ল্যারি ফিঙ্ক দাবি করেন, তেলের দাম যদি ১৫০ ডলারে অপরিবর্তিত থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে মহামন্দা দেখা দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *