মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস গড়তে চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ শুরু করেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা। এই রোমাঞ্চকর অভিযানের অংশ হিসেবে এবার চাঁদ থেকে সরাসরি এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ছবি তুলবেন তারা।
নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৃথিবী থেকে আগে কখনো দেখা যায়নি চাঁদের এমন দুর্লভ অংশ দেখার পাশাপাশি নিজ গ্রহের চমৎকার কিছু দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নভোচারীরা।
নাসার বিজ্ঞান কর্মকর্তা কেলসি ইয়ং অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, মহাকাশযানে অবস্থানকালে যখন ‘আর্থসেট’ (পৃথিবীর অস্ত যাওয়া) এবং ‘আর্থরাইজ’ (পৃথিবীর উদয়) ঘটবে, তখন নভোচারীরা সরাসরি এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া মহাদেশের দিকে মুখ করে থাকবেন। ওই বিশেষ মুহূর্তে তারা যখন পৃথিবীর ছবি তুলবেন, তখন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষজনও যেন হাত নেড়ে মহাকাশচারীদের অভিবাদন জানান—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এই কর্মকর্তা।
এর আগে অভিযানের কিউরেশন লিড জুলিয়ান গ্রস জানান, চাঁদকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন নভোচারীরা। এ সময় তারা চাঁদের বিখ্যাত অ্যারিস্টার্কাস মালভূমি, গ্রিমাল্ডি গহ্বর এবং বিশালাকার চন্দ্রসমভূমি ‘ওশেনাস প্রোসেলারাম’ পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিবিসি জানিয়েছে, মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করে চাঁদের দূরবর্তী অংশ বা ‘ফার সাইড’ প্রদক্ষিণ শুরু করেছেন নাসার আর্টেমিস টু মিশনের চার নভোচারী। এই অভিযানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মানুষের সরাসরি দেখার সুযোগ হচ্ছে চাঁদের সেই রহস্যময় অংশ, যা পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না। এই ঐতিহাসিক মিশনের প্রতিটি মুহূর্ত থেকে সংগৃহীত তথ্য ও অভিজ্ঞতা এখন বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রে।
এদিকে অভিযানের কিউরেশন লিড জুলিয়ান গ্রস এই মিশনের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নভোচারীরা চাঁদকে অতি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে অ্যারিস্টার্কাস মালভূমি, গ্রিমাল্ডি ক্রেটার এবং সুবিশাল চান্দ্র সমভূমি ‘ওশেনাস প্রোসেলারাম’ এখন তাঁদের দেখার সীমানায় রয়েছে। উচ্চ প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে এসব স্থানের বিরল সব দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, কয়েক দশকের বিরতি কাটিয়ে নাসা পুনরায় মানুষকে চাঁদে পাঠানোর যে মহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, আর্টেমিস টু তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে এই মিশনের নভোচারীরা কক্ষপথে থেকে চাঁদ ও পৃথিবীর অভূতপূর্ব দৃশ্য ধারণ এবং কারিগরি তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যা ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের পথকে আরও সুগম করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।