‘এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না’, কড়া হুঁশিয়ারি

Uncategorized

ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করবেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) তিনি এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট নতুন পদক্ষেপকে শত্রুর বিরুদ্ধে নেওয়া ‘সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোকে এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানও পাল্টা কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়ে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশের অংশগ্রহণ বা সহযোগিতাকে তেহরান ‘যুদ্ধের কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে সরাসরি সামরিক হামলা না হলেও ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে কার্যকর কোনো আলোচনা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনীতিতেও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। এর মাধ্যমে দেশটি উপসাগরীয় প্রতিবেশী এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের অর্থনীতি অবশ্য যুদ্ধ শুরুর আগেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা, জ্বালানি সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতায় চাপে ছিল। যুদ্ধের কারণে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি, বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং পুনর্গঠনের বাড়তি ব্যয় দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন বেসেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে চীন উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কোনো সমস্যার সমাধানে সহায়ক নয়। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা সর্বশেষ জুনে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিসহ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ইরানে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলেও দেশটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *