মির্জা ফখরুলের সেই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন যে ৩ জন

জাতীয়

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। তাই এই আসনকে শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে এই আসনে উপনির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক নানান হিসাব-নিকাশ।

বিএনপির ঘাঁটি এই আসনে ক্ষমতাসীন দল থেকে কাকে দেয়া হতে পারে মনোনয়ন – এ নিয়ে জনমনে জল্পনার শেষে নেই। বিরোধীদল থেকেও কাকে দাঁড় করানো হবে – সে প্রশ্নও রয়েছে আলোচনায়। যদিও এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দেলোয়ার হোসেনের নামই শোনা যাচ্ছে।

সবমিলিয়ে জনমনে প্রশ্ন একটাই ঘুরছে- কে হবেন এই আসনের আগামীর কাণ্ডারী? এর মধ্যে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামের বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয় প্রবাসী ড. শামারুহ মির্জা ও তার ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীমের নাম বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকেই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেনি বিএনপির হাইকমান্ড।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামের পার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। তিনিও উপ-নির্বাচনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, দলীয় সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

আসন্ন এই উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পরার পর থেকেই। তখন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাধারণ মানুষ ও বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর পোস্টে উঠে আসছে মির্জা ফয়সল আমিন ও শামারুহ মির্জার নাম।

এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, প্রার্থিতা নির্বাচন করার বিষয়টি এখনো আসেনি। এসব আলোচনা ও গুঞ্জনকে এখনই প্রার্থিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই আসন মাত্র শূন্য হলো। শামারুহ (সামা) অত্যন্ত স্বনামধন্য একজন বিজ্ঞানী। তিনি দেশে থাকেন না, বিদেশে থাকেন। বাবার নির্বাচনের সময় দেশে এসে মানুষের সঙ্গে মিশেছেন এবং প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। ফলে মানুষ তাকে প্রার্থী হিসেবে চাইতেই পারে।

নিজের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমি দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সে হিসেবে মানুষ আমাকেও চাইতে পারে। মানুষের এই চাওয়াটাই মূল বিষয়। তবে শূন্য আসনে কে নির্বাচন করবেন কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে – এ বিষয় সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরাই।

জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে মির্জা ফয়সল আমিন দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে তিনি দলকে সংগঠিত করতে কাজ করছেন এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। দল তাকে প্রার্থী করলে নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তারা।

অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। গত নির্বাচনে প্রায় দেড় লাখ ভোট পাওয়ায় এবারও তাকে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত।

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান জানান, আমাদের সাংগঠনিক কাজ চলমান। বিকল্প প্রার্থী হবে না কেউ। দেলাওয়ার হোসেনই আগামীর প্রার্থী হবেন। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত। এখন কেন্দ্র জানালে আমরা নেমে পড়ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *