এবার কমে গেল স্বর্ণের দাম

Uncategorized

মার্কিন মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে বুধবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতির সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা বোঝার চেষ্টা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, বুধবার ৬টা ২৫ মিনিট GMT পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৬ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। এর আগে মঙ্গলবার সোনার দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৮৩ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (PCE) মূল্যসূচকের দিকে। ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বুধবার ১২টা ৩০ মিনিট GMT-এ প্রতিবেদনটি প্রকাশের কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সোনার দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ এতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর পথে এগোতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাড়বে। সুদহার কমলে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ সোনা ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় কমে যায়, যা সোনার চাহিদা বাড়াতে পারে।

আর্থিক বাজার বিশ্লেষক ওয়ায়েল মাকারেম বলেন, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকা এবং ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নীতিগতভাবে নমনীয় বা ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য সোনার জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এদিকে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বক্তব্যের দিকেও বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তা মূল্যস্ফীতি পূর্বাভাস অনুযায়ী থাকায় সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, আগামী মাসে ফেড সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বর্তমানে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ।

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরান ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করার কথা জানানোয় তেলের দাম কমেছে। এর ফলে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি জ্বালানি সংকটের ধাক্কা বৈশ্বিক অর্থনীতি আশঙ্কার তুলনায় ভালোভাবে সামলে নিয়েছে। তবে কিছু দেশের অবনতিশীল আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রয়টার্সের কারিগরি বিশ্লেষক ওয়াং তাওয়ের মতে, স্পট গোল্ডের দাম আবার ৪ হাজার ৬৮১ ডলারের প্রতিরোধমাত্রা পরীক্ষা করতে পারে। এই মাত্রা অতিক্রম করতে পারলে সোনার দাম ৪ হাজার ৭০৭ থেকে ৪ হাজার ৭৪৩ ডলারের পরিসরে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *