ফের ফেঁসে গেলেন মিল্টন সমাদ্দার, বেরিয়ে এলো ভয়ংকর গোপন তথ্য

Uncategorized

অসহায় এক বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাভারের একটি আশ্রমে নিয়ে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাগেরহাটের কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসান ও তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। এ ঘটনায় ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’-এর চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার ও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ হাসান ও ইলিয়াস হোসেন তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে উদ্ধার করা এক অসহায় বৃদ্ধাকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তারা মিল্টন সমাদ্দারের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে শুরুতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনাগ্রহ দেখানো হয়। পরে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বৃদ্ধাকে রাখার বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এরপর নাহিদ হাসান সরাসরি মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বৃদ্ধাকে সেখানে নিয়ে যেতে বলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

তাদের অভিযোগ, আশ্রমে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। নাহিদ হাসান ও তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে তাদের দিয়ে ক্যামেরার সামনে ক্ষমা চাওয়ানো হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সরকারি তদারকির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগের বিষয়ে মিল্টন সমাদ্দারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে, এটি প্রথমবার নয় যে মিল্টন সমাদ্দারকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে তাকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে জাল মৃত্যুসনদ তৈরি, প্রতারণা, মানবপাচার ও অবৈধভাবে মানুষকে আটকে রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ওই সময় মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রিসহ আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত রায়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

তৎকালীন মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছিল এবং আদালত তাকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে সময় তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

সাম্প্রতিক এই মারধরের অভিযোগের পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—মানবিক সেবার নামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম কতটা জবাবদিহির আওতায় রয়েছে এবং সেখানে আশ্রয় নেওয়া অসহায় মানুষদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *