গোলাম মাওলা রনি জাতির সামনে এক ভয়ংকর সত্য ফাঁস করলেন

Uncategorized

বিমান কেনা, রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যবহার এবং বাংলাদেশ বিমানের সম্ভাব্য নতুন উড়োজাহাজ ক্রয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।

সার্জিও গোরের একটি টুইটের সূত্র উল্লেখ করে রনি দাবি করেন, অতীতে বাংলাদেশ যখন মাত্র সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে সংকটে ছিল, তখনও ড্রিমলাইনার কেনাকে ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, তৎকালীন মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় বাংলাদেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

রনির বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীতেও বাংলাদেশ একই ধরনের সিদ্ধান্তের পথে এগিয়েছে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময় বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তি পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ঢাকা-নিউইয়র্ক কিংবা ঢাকা-ইংল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক রুটগুলো প্রত্যাশিতভাবে লাভজনক না হলেও নতুন প্রজন্মের আরও ১২ থেকে ১৩টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এ ধরনের ক্রয়ের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা কী।

গোলাম মাওলা রনি তার বক্তব্যে অতীতের একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। তার দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ড্রিমলাইনার দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেছিল। তিনি বলেন, ওই সময় বিমানটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় পড়ে ছিল এবং এর কারণ হিসেবে বিমান চালু রেখে ইঞ্জিন সচল রাখার যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

রনি মনে করেন, একটি রাষ্ট্রীয় বিমানকে দীর্ঘ সময় অলাভজনকভাবে পরিচালনা বা বিদেশে অবস্থান করানোর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কস্ট ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টিকোণ থেকেও তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন।

তার অভিযোগ, বিমান কেনার মতো বড় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পেছনে যদি স্বচ্ছ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বদলে রাজনৈতিক স্বার্থ, প্রভাবশালী মহলের সুবিধা কিংবা ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল কাজ করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর বোঝা জনগণের ওপরই পড়ে।

তবে গোলাম মাওলা রনির এসব বক্তব্য ও অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি। বিমান কেনার চুক্তি, সম্ভাব্য উড়োজাহাজের সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান সম্পর্কে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *