বহিষ্কৃত এমপি নজরুলকে নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক, শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত এলো

Uncategorized

সংসদে দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামকে ‘সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’তে রাখা নিয়ে আজ তুমুল বিতর্কে জড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা।

বিষয়টি সামনে আসতেই বিরোধী দল শক্ত অবস্থান নেয়। তাদের বক্তব্য—নৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে জি এম নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়েছে। এমন অবস্থায় তাকে বিরোধী দলের কোটায় কোনো কমিটিতে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

আলোচনার শুরুতে চিফ হুইপ জানান, সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের প্রায় সবাইকে কোনো না কোনো সংসদীয় কমিটিতে যুক্ত করার নিয়ম রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় জি এম নজরুল ইসলামকেও একটি কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে বিরোধী দলের আপত্তি বিবেচনায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে সরিয়ে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটিতে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। তারা বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে বহিষ্কৃত ওই সদস্যকে বিরোধী দলের কোটায় কোনো কমিটিতে রাখা উচিত নয়।

এরপর বিতর্কে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদীয় বিধিবিধানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও আইনগতভাবে জি এম নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে কমিটিতে তাকে রাখা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে সংসদের পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়।

দীর্ঘ আলোচনার পর বিরোধী দলের আপত্তি ও নৈতিক দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে জি এম নজরুল ইসলামকে ওই কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকারি দল।

পরে চিফ হুইপ সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালী বিধির ২৪৪ ও ২৪৫ বিধি অনুযায়ী ‘সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। নতুন কমিটিতে এ. এম. মাহবুব উদ্দিনকে সভাপতি করার প্রস্তাবসহ অন্যান্য সদস্যদের নাম সংসদে পাঠ করা হয়।

শেষ পর্যন্ত স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সর্বসম্মতিক্রমে ‘হ্যাঁ’ ভোটে পুনর্গঠিত কমিটি অনুমোদিত হয়। এর মধ্য দিয়েই জি এম নজরুল ইসলামকে ঘিরে সংসদের দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *