সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তরুণীকে খুন হতে হলো বাবা-ভাইয়ের হাতে

Uncategorized

ভারতের আহমেদাবাদে এক তরুণীকে ‘পারিবারিক সম্মান রক্ষার’ নামে তার বাবা ও ভাই হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানো হলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ তথ্য।

নিহত তরুণীর নাম সোফিয়া। তিনি একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় ৩ মাস আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর সামাজিকভাবে পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে গত ১২ আগস্ট রাতে। ওই রাতে সোফিয়ার বাবা মোহাম্মদ ফারুক এবং তার ৩৮ বছর বয়সি ভাই মোহাম্মদ হাবিল তাকে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে নিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, গেহলজিপুরা গ্রামের কাছে একটি নির্জন মাটির সড়কে নিয়ে যাওয়ার পর হাবিল তার বোনের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে তিনবার আঘাত করেন। এরপর বাবা-ছেলে মিলে সোফিয়ার মরদেহ মূল সড়কে নিয়ে যান। হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে মোটরসাইকেলটিও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, যাতে সেটিকে দ্রুতগতির কোনো গাড়ির ধাক্কায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।

এরপর হাবিল কর্তৃপক্ষকে জানান, গেহলজিপুরা মোড়ের কাছে একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তার বোন গুরুতর আহত হন এবং তার নিজের শরীরেও আঘাত লাগে বলে দাবি করেন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় সোফিয়াকে সোলা সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে হিট অ্যান্ড রান ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি খুঁজে পায়। পরে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।

পুলিশের দাবি, সোফিয়াকে নিয়ে বের হওয়ার আগে হাবিল তার প্যান্টের ভেতর একটি লোহার হাতুড়ি লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবা ও ছেলে মিলে তাকে হত্যা করেন এবং পরে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজান।

পুলিশ জানায়, সোফিয়ার সঙ্গে এক ব্যক্তির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তার বাবা ও ভাইয়ের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। পরিবারের সামাজিক সম্মান রক্ষার অজুহাতে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ ফারুক ও মোহাম্মদ হাবিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *