বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আপডেট দিয়ে উল্টো বিপদে সেই সুমন

জাতীয়

দেশের টানা লোডশেডিংয়ের মুখে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আপডেট দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েছেন মাদারীপুরের সুমন হোসেন নামের এক তরুণ। তিনি লাইনম্যান গ্রেড-২ পদে জেলার মিঠা পুকুর স্টেশনে কর্মরত।

সুমন নিজের একটি পেজ থেকে গত কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সঠিক চিত্র বোঝাতে নানা ধরনের ভিডিও পোস্ট করছিলেন। যে কাজ করার কথা ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের, সেই কাজ নিজে করতে গিয়ে পড়েছেন উল্টো বিপদে।

তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বলেছেন, তার বেঁচে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে কয়েকটি গণমাধ্যমকেও দায়ী করেছেন তিনি।

সর্বপ্রথম সব কিছুর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি ভাবতে পারিনি আমার করা ছোট একটি ভিডিও আমার, আমার পরিবার, আমার কর্মস্থল ও পুরা দেশের উপর এতো বাজে প্রভাব ফেলবে। সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিস ভাংচুর করছে। বিদ্যুৎ কর্মীদের মারতেছে, গ্রাহক যেন লোডশেডিংয়ের জের ধরে অফিস ভাঙচুর না করে, সে জন্য আমি তাদের বোঝাতে চাচ্ছিলাম যে এই অফিস কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে।

মূল কথা তারা যেন আমাদের অফিসে হামলা না করে।

কিন্তু সেটা যে মানুষ জাতির কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করবে, আমি বুঝতে পারিনি। কীভাবে কি হয়ে গেল আমি বুঝতেই পারিনি, বিশেষ করে কিছু পত্রিকা এমনভাবে নিউজ করল আমাকে নিয়ে যেখানে আমার বেঁচে ফেরার পথ রাখেনি।

আমি কাউকে দোষারোপ করছি না, হয়তো এটা আমার ভাগ্যে ছিল, আর আমারও ভুল ছিল আমি অফিসের কথা ভেবে ভিডিও করছি। আমি বুঝতে পারছি আমি অজান্তেই কত বড় একটা বিপদ ডেকে এনেছি।

সর্বশেষ আমি, আমার দেশ ও দেশের মানুষের কাছে আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার কথা ও কাজে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দিবেন। বিশেষ করে আমার ঊর্ধ্বতন স্যারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আমি সত্যি বুঝতে পারিনি বিষয়টি এতদূর গড়াবে।

সে সঙ্গে আমি কথা দিচ্ছি, আমি আর কোনো দিন বিদ্যুৎ বিষয়ে কোনো পোস্ট বা ভিডিও আপলোড করব না।

সবাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *