বিদ্যুতের চড়া বিল আর লোডশেডিংয়ের চাপ থেকে স্বস্তি দিতে রুফটপ সোলারকে ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাড়ির ছাদ কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার সুবিধা দেবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী গ্রাহকরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন।
এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সরকারি অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদেও রুফটপ সোলার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ফলে এতদিন যে ছাদগুলো শুধু পড়ে থাকত, সেগুলোই ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়লে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে আয় করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। খালি ছাদ যদি বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন উৎস হয়ে ওঠে, তাহলে চড়া বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে স্বস্তি পাওয়ার পথও অনেকটাই সহজ হতে পারে।
তাই প্রশ্ন উঠছে—রুফটপ সোলারের এই উদ্যোগ কি সত্যিই বিদ্যুতের চড়া বিলকে চিরতরে টা-টা বাই-বাই বলার পথ তৈরি করবে?