২০ লাখ টাকা ঋণ পেতে জামানত লাগবে না যাদের

Uncategorized

উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ অর্থায়নের অর্ধেক হবে ব্যাংক ঋণ, আর বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে অনুদান হিসেবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা—এই ঋণের জন্য কোনো সহায়ক জামানত লাগবে না।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মসূচির আওতায় তফশিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখার মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে। উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক ধারণা, সম্ভাব্যতা এবং প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাইয়ের পর অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচিত উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন পাবেন। এর অর্ধেক ব্যাংক ঋণ এবং অর্ধেক অনুদান। ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত দিতে হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থও সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। একই সঙ্গে ঋণ হিসাব প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকৃত হয়ে খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে ওই উদ্যোক্তা ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।

বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হলে এ কর্মসূচিতে আবেদন করা যাবে। আগে ব্যবসার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীর একটি বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা থাকতে হবে।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ ব্যবসা এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।

আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দারা যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আট জেলার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচি চালু করা হবে। জেলাগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা।

প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচন করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তখন প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

শুধু অর্থায়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই উদ্যোগ। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজার সংযোগের সুযোগও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং তরুণরা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *