নবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ছয় মাসের জন্য শুল্ক-কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ২০তম এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরে এক প্রেস ব্রিফে এসব প্রস্তাব অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়।
নবায়নযোগ্য সৌর শক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সরকারের আশা, এই সুবিধার ফলে দ্রুত সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে এবং বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে জনজীবনে সৃষ্ট ভোগান্তি কমবে, শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতিও হ্রাস পাবে। এতে বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সরকার।
এদিকে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এতে প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’-এর পরিবর্তে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ নির্ধারণ করা হবে।
এ জন্য সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হবে। সরকার মনে করছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণের ফলে অবৈধ বাণিজ্য কমার পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতিও হ্রাস পাবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
হংকং বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হংকংয়ের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ রয়েছে।
সরকার মনে করছে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ চুক্তি দুই পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে। এর ফলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চুক্তির আওতায় উভয় দেশের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চুক্তিটি সংশোধন করতে পারবে এমন বিধানও খসড়া চুক্তিতে রাখা হয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াতে একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।