ঘুমিয়ে ছিলেন এক ঘরে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছুরি দিয়ে আঘাত, এরপর মা ও ভাই…

Uncategorized

অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে নিহতের স্ত্রী ও অপর ছেলে আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী (৩৫) তার বড় ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাবা ও ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন তাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা ছিল না। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ওই ঘর থেকে শব্দ শুনতে পান। পরে অন্ধকার ঘরে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় শাকিল তার বাবাকে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম ও অপর ছেলে নুরুন্নবী রাশেদ বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে তারা আহত হন।

পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে শিবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের মেয়ে হাফসা বেগম বলেন, ‘আমরা তার মৃত্যুদণ্ড চাই। তা না হলে আমাদের কাছে দেন, আমরা বিচার করব। আমার জানডারে মাইরা ফেলছে, এত ভালো মানুষটা। সে আমাদের সবাইকে মারতে চায়। আমরা ভয়ে আছি। আমরা তার ফাঁসি চাই।’

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া বলেন, ছেলের হাতে বাবা হত্যার শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তার বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হন।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *