সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। বিলটি নিয়ে বিরোধী দল ও জামায়াতের আপত্তি এবং আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক।
বিলটির পক্ষে থাকা পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্তান বা আত্মীয়ের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের প্রতারণা বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি কমানো হবে। তবে বিরোধী দল ও জামায়াতের পক্ষ থেকে এটিকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সে বিষয়ে আলেমদের মতামতের জন্য পাঠানোর দাবি ওঠে।
জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বিষয়টি প্রচলিত ‘হেবা’ ব্যবস্থার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, এটি ধর্মভেদে নয়, বরং দেশের সব নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য একটি সাধারণ আইনি সুরক্ষা।
এ নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই বিরোধী দলের ওয়াকআউটের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের ভোটাভুটির সময় তারা কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে সংসদে ফিরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে আবারও তারা ওয়াকআউট করেন।
অন্যদিকে, বিরোধীদের আপত্তি ও সংসদ বর্জনের মধ্যেই একই রাতে গুম প্রতিরোধসহ মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে—সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো একটি আইনি সুরক্ষা নিয়ে আপত্তির মূল জায়গাটি কোথায়, আর জামায়াতের এই দাবির পেছনে আসলে তারা কী ধরনের পরিবর্তন চাইছে?