কেউ সরাতে পারবে না’ বিএনপি নেতার বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই

Uncategorized

আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’— দিনভর শোডাউন ও নির্বাচনি প্রচারণার পর এক পথসভায় এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম খোকন। তবে এই বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার চান্দিনার শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দিনভর শোডাউন, গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন খোকন। রাতেই বাড়ি ফিরে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে মারা যান তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে শুহিলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শালিখা গ্রামে নানার বাড়ি থেকে নির্বাচনি কর্মসূচি শুরু করেন খোকন। তার নেতৃত্বে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল ও অর্ধশত সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বড় ধরনের শোডাউন করা হয়। পরে শালিখা গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।

সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেন খোকন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি চান, শাওন সাহেব আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকেই প্রার্থী ঘোষণা করবেন।’

দিনভর কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান খোকন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাত ১২টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে খোকনের মেজো ছেলে মো. সাঈদ বলেন, ‘বাবা সারাদিন প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। রাতে সুস্থভাবেই বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বুকে ব্যথায় সব শেষ হয়ে গেল।’

সাইফুল ইসলাম খোকন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতিও ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শোকবার্তায় তিনি খোকনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে খোকনের দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

যে মানুষটি কয়েক ঘণ্টা আগেও নির্বাচনি মাঠে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউন করে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, রাত পেরোতেই সেই মাঠ নিস্তব্ধ। প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে নয়, জীবনের কাছেই হেরে চিরতরে বিদায় নিলেন শুহিলপুরের পরিচিত এই বিএনপি নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *